ভর-ওজন। Mass-Weight
ভর (Mass): পদার্থের মোট পরিমাণকে ভর বলা হয়।
ওজন(Weight): ওজন হচ্ছে বস্তুর ভর এবং অভিকর্ষজ ত্বরণের গুণফল।
বিদ্রঃ সরাসরি ভর পরিমাপ করা সম্ভব নয়, কোনো বস্তুর ওজন এবং সেখানকার অভিকর্ষজ ত্বরণ দিয়ে, ভর বের করা হয়।
আমরা অনেকেই বলি খেয়ে খেয়ে ওজন বেড়ে গেছে। আসলে আমাদের ভর বাড়ে যার ফলে ওজন বাড়ে৷ আচ্ছা একটা উদাহরণ দেই, আমরা জানি, চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর ৬ ভাগের ১ভাগ। অর্থাৎ ৬০ কেজি ওজনের একজন ব্যক্তি চাঁদে গেলে ওজন ১০ কেজি হবে।
ওজন হচ্ছে কত বলে অভিকর্ষন বল কোনো ভরকে টানছে। অর্থাৎ ৫ কেজি ভরের একটি বস্তুকে যেমন ২ ms^-2 নিয়ে ১০কেজি হবে, ১০০ ms^-2 তে নিয়ে গেলে ৫০০কেজি হবে।
অভিকর্ষজ ত্বরণের ভিন্নতার জন্য ওজনেরও পার্থক্য হয়। পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণ চাঁদের চেয়ে বেশি তাই পৃথিবীতে বস্তুর যা ওজন,চাঁদে গেলে তা কমে যাবে। আবার পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরন বৃহস্পতি অপেক্ষা কম, তাই একই বস্তু পৃথিবীর তুলনাও বৃহস্পতিতে ওজন বেশি। কিন্ত সব ক্ষেত্রেই ভর একই থাকবে।
অভিকর্ষজ ত্বরণের মান পৃথিবীর ব্যাসার্ধ্যর বর্গের ব্যস্তানুপাতে পরিবর্তিত হয়।
১। মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ সবচেয়ে কম বলে, সেখানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে বেশী (৯.৮৩২ ms^−2)।
২। বিষুবীয় অঞ্চলে ব্যাসার্ধ অপেক্ষাকৃত বেশি বলে, মান অপেক্ষাকৃত কম (৯.৭৮০৩৯ ms^−2) ।
৩। ক্রান্তীয় অঞ্চলে এর মান ৯.৭৮৯১৮ ms^−2।
ভর ও ওজনের পার্থক্য
- বস্তুর মধ্যে পদার্থের মোট পরিমানই হচ্ছে ভর।
- কোনো বস্তুকে পৃথিবী যে বলে তার কেন্দ্রের দিকে আকর্ষল করে তা হলো বস্তুর ওজন।
- ভর হল পদার্থের পরিমাণের একটি পরিমাপ।
- ওজন হল কোনও বস্তুর উপর মহাকর্ষের টান পরিমাপ
- যখন কোনও বস্তুর অবস্থান পরিবর্তন হয় তখন কোনও বস্তুর ভর পরিবর্তন হয় না।
- অন্যদিকে, ওজন অবস্থানের সাথে পরিবর্তিত হয়।
- ভর কখনই শূন্য হতে পারে না।
- মহাশূন্যের মতো কোনও বস্তুর উপর মাধ্যাকর্ষণ কাজ না করলে ওজন শূন্য হতে পারে।
- ভরের আন্তর্জাতিক একক হলো কিলোগ্রাম।
- ওজনের আন্তর্জাতিক একক হলো নিউটন।


0 Comments