ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র এর পার্থক্য।

ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের পার্থক্য

শুরুতেই বলে রাখি পৃথিবীর কোনো দেশেই পূর্নাঙ্গ ধনতান্ত্রিক কিংবা পূর্নাঙ্গ সমাজতান্ত্রিক নয়। কোনো দেশের ধনতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য বেশি আবার কোনো দেশে সমাজতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য বেশি। 

ধনতন্ত্র(Capitalism): যেখানে ব্যাক্তি মালিকানা প্রধান। অর্থ আছে সব আছে, অর্থ নেই কিছুই নেই।
সবকিছুই ব্যাক্তি মালিকানাধীন, কোনো কিছুই সরকারের নেই যেমন,( স্কুল,কলেজ,হাঁসপাতাল ইত্যাদি)  যার ফলে বিনা পয়সায় কিছুই পাওয়া যায়না। পড়াশুনা করতে হলে প্রাইভেট স্কুলে পড়তে হবে তেমনি চিকিৎসা বা অন্য যেকোন সেবা শুধুমাত্র ব্যাক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান থেকেই নিতে হবে।
বাজারের নিয়ন্ত্রণ সরকারের কাছে থাকবেনা।   চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের দাম উঠানামা করবে।  

ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের পার্থক্য


সমাজতন্ত্র(Socialism): সমাজতান্ত্রিক দেশে সমাজের সকল মানুষের কথা গুরুত্ব পায়। ব্যাক্তি মালিকানা গৌন হয়ে পড়ে।
এখানে সবকিছুই সরকারি,কোনো ব্যাক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান থাকেনা। আর থাকলেও সেটা সরকারের নিয়ন্ত্রনে থাকে।

সমাজতান্ত্রিক দেশে কোনো ব্যাক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান না থাকায় কোটিপতির ছেলে যে স্কুলে পড়ে গরিবের ছেলেও একই স্কুলে পড়বে। অর্থাৎ সবার জন্য সেবা একই। টাকার বিনিময়ে প্রাইভেট কোনো সেবা পাওয়া যায়না।

গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র: ধনতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্রের মাঝামাঝি যে তন্ত্র সেটাই গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র।
আমরা জানি ধনতান্ত্রিক দেশে ধনীরা বেশি সুবিধা পায়, আবার সমাজতান্ত্রিক দেশে পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো বেশি সুবিধা পায়। কিন্তু গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রে দুই দলের লোকেই সুবিধা পায়। অর্থাৎ এখানে সরকারি এবং ব্যাক্তি মালিকানাধীন দুই রকমের প্রতিষ্ঠানই থাকে। ধনীর ইচ্ছা করলেই প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নিতে পারে,আবার গরিব পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিনা পয়সায় সরকারি সেবাও পাওয়া যায়। অর্থাৎ সবশ্রেণীর মানুষের কথা গুরুত্ব দেওয়া হয়। 


বাংলাদেশ কোন ধরনের দেশ?

 আমাদের দেশের কথা চিন্তা করা যাক, এখানে সরকারি ও বেসরকারি (ব্যাক্তি মালিকানাধীন)  দুই ধরনের প্রতিষ্ঠানই আছে অর্থাৎ একই সাথে ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র পাশাপাশি বিরাজমান। সুতারাং বাংলাদেশ গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের দেশ। 

Post a Comment

0 Comments