সাবমেরিন কি কেন কিভাবে
সাবমেরিন বা সহজ কথায় "ডুবোজাহাজ" হলো এক বিশেষ জলযান(water craft), যেটি পানির উপরে ও নিচে চলাচল করতে পারে।
সাধারনত এটি দিয়ে পানির নিচে লুকিয়ে প্রতিপক্ষকে আক্রমন করতে এবং আরো নানাবিধ কাজে যেমনঃ সমুদ্র বিজ্ঞান, উদ্ধার তৎপরতা,ক্যাবল মেরামত ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা হয়।
![]() |
| সাবমেরিন |
সবচেয়ে বেশি সাবমেরিন রয়েছে : উত্তর কোরিয়ার -৮৩ টি। চায়নার আছে- ৭৪টি , আমেরিকার- ৬৬টি ,রাশিয়ার-৬২, ইরানের- ৩৪, জাপানের- ২০, ইন্ডিয়ার-১৬ টি। বাংলাদেশের সাবমেরিন আছে দুইটি "নবযাত্রা’ ও ‘জয়যাত্রা"।
কিভাবে কাজ করে সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ?
সাবমেরিন কাজ করে গ্রিক বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের প্লবতার সূত্র অনুযায়ী - "ব্যালাস্ট ট্যাঙ্ক" থিওরির উপর ভিত্তি করে। "ব্যালাস্ট ট্যাংক" এমন এক ধরনের ট্যাংক যেটার ভিতর পানি ভরিয়ে বা অপসারণ করে জাহাজকে ডুবতে, ভাসতে বা জাহাজের ভারসাম্য রক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণস্বরূপ, একটা বোতলের ভেতর যখন বাতাস থাকে, তখন তা পানিতে ভাসে। আবার বোতলে পানি ভরা হলে, তা ডুবে যায়। এখন যদি ডোবা বোতলের পানি অপসারিত করে বাতাস ঢোকানোর ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে বোতলটা আবার পানিতে ভেসে উঠবে।
ঠিক
একইভাবে সাবমেরিনে এই বোতলের কাজ করে, কতগুলো "ব্যালাস্ট ট্যাংক"।
ট্যাংকের মুখ খুলে পানিকে প্রবেশ করানো হয়, যাতে সাবমেরিনটির ভেতরে পানি
ঢুকে সাবমেরিনটি
ক্রমশ ভারী হয়ে। একসম্য পানিতে নিমজ্জিত হতে থাকে। অতঃপর পানির নিচে চলে
যায় এবং স্বাধীনভাবে চলাচল করে।
আবার সাবমেরিনটিকে উপরে ওঠার দরকার হলে সাবমেরিনটির ভেতরে থাকা পানিকে বের করে দেয়া হয়। ফলে সাবমেরিনটি হালকা হয়ে পানির উপরে ভেসে উঠে।
সাবমেরিন ক্যাবল কি?
যে ক্যাবল সাগরের তলদেশ দিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রেরন করা হয়, সেই ক্যাবলকে সাবমেরিন ক্যাবল বলে।
যেমন আমাদের ব্যবহৃত ইন্টারনেট ক্যাবলগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে বঙ্গপসাগর দিয়ে আসে। এখন প্রশ্ন হলো কেন পানির নিচ দিয়ে আনা হয়? পানির নিচে দিয়ে স্থলভাগের ঝামেলা এড়ানো কিংবা দুরত্বকে কমানোর জন্য। এছাড়া স্যাটেলাইটের তুলনায় সাবমেরিন ক্যাবল অনেক বেশি ডাটা ট্রান্সফার করতে পারে।


0 Comments